এক নজরে মাদরাসা পরিচিতি
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আদর্শভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
১৯৬৫
প্রতিষ্ঠাকালআহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আদর্শ, সুন্নিয়তের সুমহান ঐতিহ্য এবং ইসলামী শিক্ষার বিশুদ্ধ ধারা সংরক্ষণ ও প্রসারের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত একটি ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো জামেয়া অদুদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসা।
ইসলামের সুমহান বাণী, আকীদা ও আমলের বিশুদ্ধ শিক্ষা যুগে যুগে সাহাবায়ে কেরাম (রা.), তাবেয়ীন, তাবে-তাবেয়ীন, আইম্মায়ে মুজতাহিদিন, মুহাদ্দিসীন, মুফাসসিরীন, পীর-মাশায়েখ ও ওলি-আউলিয়াগণের নিরলস সাধনা ও ত্যাগের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী বিস্তার লাভ করেছে।
ভারতীয় উপমহাদেশে শাইখ আহমদ সরহিন্দী মুজাদ্দিদে আলফে সানী (র.), শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (র.) ও তাঁদের উত্তরসূরী মনীষীগণ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আদর্শভিত্তিক শিক্ষা ও দাওয়াতি কার্যক্রম সুপ্রতিষ্ঠিত করেন।
ঔপনিবেশিক শাসনামলে মুসলিম সমাজে ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থার নানা পরিবর্তন ও মতাদর্শিক বিভ্রান্তির প্রেক্ষাপটে সুন্নি আকীদা ও আদর্শ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তীব্র হয়ে ওঠে।
এ প্রেক্ষাপটে উত্তর চট্টগ্রামে সুন্নিয়তের সঠিক দাওয়াত, বিশুদ্ধ ইসলামী শিক্ষা ও আদর্শিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হযরতুল আল্লামা গাজী মোহাম্মদ আজিজুল হক আলকাদেরী (শেরে বাংলা র.) -এর নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী দ্বীনি আন্দোলনের সূচনা হয়। তাঁর সুদূরপ্রসারী চিন্তা, সুন্নি উলামায়ে কেরামের সহযোগিতা এবং ধর্মপ্রাণ সমাজপতিদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় উত্তর চটলার তৎকালিন বিখ্যাত দানবীর, ধর্মভীরু মরহুম আলহাজ্ব আবদুল ওয়াদুদ চৌধুরীর সার্বিক সহযোগিতায় ১৯৬৫ ইং সালে প্রতিষ্ঠা করেন ঐতিহ্যবাহী জামেয়া অদুদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসা, যা পরবর্তীতে পর্যায়ে দেশের অন্যতম সুপরিচিত সুন্নি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ প্রতিষ্ঠান সুন্নিয়তের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে ইসলামী জ্ঞানচর্চা, নৈতিকতা, আদর্শিক নেতৃত্ব এবং মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। হযরতুল আল্লামা ওকার উদ্দীন (র.)-এর মতো প্রখ্যাত আলেমের নেতৃত্বে পরিচালিত এ প্রতিষ্ঠান পরবর্তীকালে বহু বরেণ্য পীর-মাশায়েখ, মুহাদ্দিস, মুফতি ও আলেমে দ্বীনের খেদমতে সমৃদ্ধ হয়েছে। তাঁদের মধ্যে হযরতুল আল্লামা কাজী নূরুল ইসলাম হাশেমী (ম.জি.আ.), আল্লামা মুছলেহ উদ্দীন (ম.জি.আ.), মুফতিয়ে আহলে সুন্নাত আল্লামা ওবায়দুল হক নঈমী (ম.জি.আ.) প্রমুখের অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়।
বর্তমানে অভিজ্ঞ ও দক্ষ শিক্ষকমণ্ডলী, আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনা, সুশৃঙ্খল আবাসিক পরিবেশ এবং দ্বীনি ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বিত পাঠক্রমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দেশের অন্যতম সুপরিচিত শিক্ষা কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর অভ্যন্তরীণ ও কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে সুনামের সাথে অবদান রেখে চলেছে। সবুজ-শ্যামল প্রাকৃতিক পরিবেশ, সুবিশাল একাডেমিক ভবন, সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, আধুনিক ছাত্রাবাস, মসজিদ, হেফজখানা ও এতিমখানা সমন্বয়ে মাদরাসাটি একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী শিক্ষানগরী হিসেবে গড়ে উঠেছে। আল্লাহ তাআলার অশেষ মেহেরবানি, প্রতিষ্ঠাতাদের দূরদর্শিতা এবং সুন্নি জনতার ভালোবাসা ও সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি তার গৌরবোজ্জ্বল অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে।
শিক্ষাস্তর ও বিভাগ
- হিফজুল কুরআন বিভাগ
- ইবতেদায়ী থেকে দাখিল (সাধারণ ও বিজ্ঞান)
- আলিম (সাধারণ ও বিজ্ঞান) থেকে কামিল এম.এ. (হাদীস)
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
- কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক বিশুদ্ধ ইসলামী শিক্ষা বিস্তার
- হক্কানী, রব্বানী ও আমলদার আলেম গড়ে তোলা
- নৈতিক, আদর্শবান ও দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরি
- দ্বীনি ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে দক্ষ মানবসম্পদ গঠন
প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য
| শিক্ষক-কর্মচারী | ১৩৪ জন |
|---|---|
| শিক্ষার্থী সংখ্যা | প্রায় ১৫০০+ |
| একাডেমিক ভবন | সুবিশাল পাঁচতলা আধুনিক ভবন |
| গ্রন্থাগার | ইন্টারনেট সুবিধাসহ ১৫,০০০+ বই সমৃদ্ধ |
| ছাত্রাবাস | ১টি আবাসিক ভবন |
| ক্যাম্পাস আয়তন | প্রায় ৪.৩৪ একর |
| পরিবেশ | সবুজ-শ্যামল ও মনোরম আবাসিক ক্যাম্পাস |